Wednesday, July 23, 2008

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স-১


খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, একসময় মনে করা হত যার আই কিউ যত ভাল সে মানুষ হিসাবে তত বেশি এগিয়ে। এখন বোধহয় সে ধারণা বদলেছে, এক্ষেত্রে যেটি আই কিউ এর জায়গা দখল করেছে, সেটি হল ই কিউ (Emotional Intelligence Quotient)

ডেনিয়েল গোলম্যান এই টার্মটাকে জনপ্রিয় করেছেন তার লেখা বই 'ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স' এর মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে। বইটি প্রায় দেড় বছর আন্তর্জাতিক বেস্ট সেলার বই হিসাবে New York Times-এ স্থান পেয়েছিল।

আই কিউ, Intelligence Quotient, যা পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির বুদ্ধমত্তাকে পরিমাপ করে থাকে। মূলত মানুষের বোধশক্তিকেই (Cognitive Ability) আই কিউ বলা হয়ে থাকে। কগনিশন হচ্ছে জ্ঞান এবং বুঝশক্তি যা চিন্তা-ভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং সেন্স দ্বারা অর্জিত হয়ে থাকে।

বাস্তবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে দেখা গেছে, এর বাইরেও আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলি মানুষের উন্নতির জন্য বড় ভূমিকা রাখে। এটাকেই বলা হচ্ছে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, যাকে অল্প কথায় বলা যেতে পারে ব্যক্তির যোগ্যতা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়।

আর একটা কথা বলা উচিত, আই কিউকে মাপা যায় কিন্তু ই কিউকে মাপা যায় না। যদিও শেষেরটির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ লক্ষ করা যায়।

ডেনিয়েল গোলম্যান তার মডেলে চার ধরনের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স স্কিলের কথা বলেছেন:
১. সেল্ফ অ্যাওয়ারনেস
২. সেল্ফ ম্যানেজমেন্ট
৩. সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস
৪. রিলেশনশীপ ম্যানেজমেন্ট

আই কিউ এর উপর ভিত্তি করে সমারভিল, ম্যাসাচুসেটস-এ ৪৫০ জন বালকের উপর এক পরীক্ষা চালানো হয়। দুই-তৃতীয়াংশকে নেয়া হয় ওয়েলফেয়ার ফ্যামিলি থেকে এবং বাকীদের নেয়া হয় যাদের আই কিউ ৯০ এর কম। ৪০ বছর পর দেখা গেছে, তাদের বাকী জীবন কত ভালভাবে কেটেছে তা তাদের আই কিউয়ের সাথে কমই সংগতিশীল ছিল।

আজ এ পর্যন্তই, আগামী পর্বে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

Monday, July 21, 2008

বাস্তব জীবন থেকে পাওয়া কতিপয় শিক্ষা (শেষ): ড. আহমাদ তুতুনজী

এই লেখাটি ইতোপূর্বে কোন এক বাংলা ব্লগ সাইটে ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে প্রকাশিত হয়।

শেষ পর্বঃ
ঃ যাদের মাঝে ব্যর্থতা মোকাবিলা করার মত সাহস আছে, তারাই কঠিন বাধা অতিক্রম করে সফল হতে পারে।

ঃ বর্তমান বিশ্বে ব্যর্থতা সবচেয়ে খারাপ বিষয় নয়, বরং কোন কিছুতে দক্ষ না হতে পারাই আসল ব্যর্থতা।

ঃ সর্বোচ্চ ভবনের মালিক হওয়ার জন্য দুটি পদ্ধতি আছে: (১) নিজের চারপাশের সকল ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া, (২) সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণ করা। এর মধ্যে সর্বদা দ্বিতীয় পন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়।

ঃ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষ শেষ হয়ে যায় না বরং অহংকারই তাকে শেষ করে দেয়।

ঃ চূড়ান্ত সফলতা সেই লাভ করে যার সাহস ও ধৈর্য শক্তি আছে।

ঃ বীরত্ব ছাড়া এই জীবনে বড় কিছু বাস্তবায়ন করা যায় না।

ঃ একটু মুচকি হাসি দিতে কিছুই খরচ হয় না, কিন্তু অনেক কিছুই অর্জিত হয়।

ঃ আমাদের দেখা যতকিছু উদ্ভাবিত ও আবিস্কৃত হয়েছে , তা উদ্ভাবিত ও আবিস্কারের পূর্বে এই ফায়সালা দেয়া হয়েছে যে, এটা খুবই অসম্ভব।

ঃ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকালে তুমি যদি পূর্ণ প্রস্তুতিসহ আসো , তাহলে পুরস্কার না পেলেও তুমি সফল।

ঃ মানুষ সবচেয়ে বেশি কার্যকরী যে অস্ত্র লাভ করতে পারে তা হলো সময় ও ধৈর্য।

ঃ যারা ব্যর্থ তারা দু’শ্রেণীতে বিভক্ত। এক শ্রেণী শুধু চিন্তা করে কিন্তু তা বাস্তবায়ন করে না, আর এক শ্রেণী চিন্তা না করেই কাজ করে।

ঃ যে কাজ করে না তার কোন ভুল হয় না, যে কাজ করে তারই ভুল হয়।

ঃ কোন কিছু প্রত্যাশা করা ছাড়া প্রদত্ত একটি সস্তা উপহারের প্রভাব, বিনিময় পাওয়ার প্রত্যাশায় প্রদত্ত মূল্যবান উপহারের প্রভাবের চেয়ে অনেক বেশি।

ঃ এমন অনেক সমস্যা আছে যা মানুষকে মেনে নিতে হয়; কিছু সমস্যা অনেক কঠিন, আর কিছু মানুষের ক্রোধের উদ্রেক করে।

ঃ সবচেয়ে ভাল আত্নতৃপ্তি হলো নিজের ভিতরে এ অনুভূতি থাকা যে, তুমি সঠিক পথে আছো, এতে যদি সারা দুনিয়া তোমার শত্রু হয়ে যায়, তাতেও কোন অসুবিধা নেই।

ঃ জীবনে সমস্যার অস্তিত্ব না থাকায় সৌভাগ্যের কারণ নয়, বরং সমস্যা জয় করতে পারলেই সৌভাগ্য নাগালে আসে।

ঃ অতীত নিঃশেষিত হয়েছে, ভবিষ্যত সুদূর পরাহত, কিন্তু বর্তমান হচ্ছে মহা সুযোগ, আমাদেরকে এ সুযোগ বিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার সাথে কাজে লাগাতে হবে।


(ছাত্রসংবাদ থেকে সংগৃহীত)

Sunday, July 20, 2008

বাস্তব জীবন থেকে পাওয়া কতিপয় শিক্ষা (এক): ড. আহমাদ তুতুনজী

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন এক বাংলা ব্লগ সাইটে ১৩ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে


বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন আগে ড. আহমাদ তুতুনজী এসেছিলেন। গ্র্যান্ড আজাদ হোটেলে তাঁর স্মরণে আয়োজিত একটি প্রোগ্রামে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে যে চমৎকার বক্তব্য দেন তার সার নির্যাস নিচে তুলে ধরা হলো.........

ঃ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা লেখাপড়া শিখে পরীক্ষার সম্মুখীন হই, আর বাস্তব জীবনে আমরা পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে পড়াশুনা করি।

ঃ একজন বিজ্ঞ লোকের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনা বা তাঁর একটু সঙ্গ মাসব্যাপী অধ্যয়নের সমান।

ঃ উত্তম মানুষ তিনি, যিনি কচ্ছপের গতিতে সঠিক পথে চলেন, সে নয় যে হরিনের বেগে ভুল পথে ধাবিত হয়।

ঃ অগণিত শিক্ষার্থী পাওয়া যায়, কিন্তু পরিশীলিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নগণ্য ।

ঃ নিজের চারপাশের সকলকেই খুশী করতে মনোনিবেশ করাই ব্যর্থতার দ্বার খুলে দেয়।

ঃ এ পর্যন্ত তুমি কি অতিক্রম করে এলে তার সাথে তুলনা করো না, বরং নিজের সামর্থ দ্বারা কি অর্জন করা উচিত ছিল তার সাথে হিসাব মেলাও।

ঃ সফলতাই সব কিছু নয়, সফলতা লাভের আগ্রহই সব কিছু।

ঃ সফলতা পেতে হলে মানুষকে লোক চক্ষুর অন্তরালে অবস্থানকারী, হতাশ, একদেশদর্শী, অলক্ষুণে ও হিংসুটে লোকদের থেকে দুরে থাকতে হবে কেননা আমাদের সম্পর্কে যে সব কথা তারা বলে, তা আমরা তাদের থেকে দূরে থাকলে যতটা ক্ষতি করে, তাদের থেকে দূরে না থাকলে তা আরো বেশি ক্ষতি করবে। একদেশদর্শিতা, হতাশা, অলক্ষুণে ভাব কলেরার মত মারাত্নক রোগ সবসময় এগুলো থেকে দূরে থাকবে।

ঃ ভাল কথার চেয়ে ভাল কাজ অনেকগুণে উত্তম।

ঃ আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি মহান অর্জনের সূচনা হয়েছে চিন্তা ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ দিয়ে।

ঃ যে কোন কাজ সম্পন্ন করার সর্বোত্তম পন্থা সর্বদা বিদ্যমান, সে পন্থা লাভ করার চেষ্টা আমাদেরকে অব্যাহত রাখতে হবে।

ঃ তোমার কাজ কত দ্রুত সম্পন্ন করলে তা মানুষ ভুলে যায়, কিন্তু তোমার সফলতার মান থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।

ঃ আপন সত্তার সাথে প্রতিযোগিতাই বিশ্বের সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা, মানুষ যখন আপনসত্তার সাথে প্রতিযোগিতা করে তখন নিজেই উৎকর্ষিত হয় এভাবে যে, তার আজকের জীবন যেন গতকালের চেয়ে সুন্দর হয় এবং আজকের চেয়ে আগামীকালের জীবন যেন আরো সুন্দর হয়।

ঃ মানুষ কোন বিষয়ে উৎকর্ষ সাধন করতে পারে না যদি তাতে অভ্যস্ত হওয়ার পরিবর্তে দক্ষ না হয়।

ঃ যারা ব্যর্থ তারা বলে যা বাস্তবে লাভ হয় তা-ই সফলতা ।

ঃ পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া কোন প্রত্যাশাই পূরণ হয় না।

ঃ দ্রুততর যোগাযোগ, ইন্টারনেট ও কম্পিউটারের এ যুগে জ্ঞানই একমাত্র শক্তি বলে গণ্য হয় না, বরং জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগই শক্তি।

(চলবে, ছাত্র সংবাদ থেকে সংগৃহীত)

Friday, July 18, 2008

আপনি আমার কাছে নিরাপদ

আপনি আশ্বস্ত হতে পারেন, বিশ্বাস করতে পারেন, আস্থা রাখতে পারেন.... আপনি আমার কাছে নিরাপদ। আপনাকে দেয়ার মত আমার কমপক্ষে এতটুকু আছে। এটুকুই বা কম কি?

হতে পারে, আপনি দরিদ্র- সহায় সম্বলহীন একজন মানুষ। আমিও হয়ত আপনাকে দেয়ার মত তেমন যোগ্যতা রাখি না, কেবল একটি ছাড়া। আপনার অসহায়ত্বের আমি সুযোগ নিবো না, আপনি আমার দ্বারা আক্রান্ত হবেন না। এই সামান্য ব্যাপারটা কি আপনার কোন কাজে আসে?

হতে পারে, আপনি সম্পদশালী- অনেক বিত্ত বৈভবের মালিক। আপনার সম্পদ আমার মধ্যে কোন ঈর্ষা তৈরি করে না। আমি মানুষকে সম্পদের মাপকাঠিতে জাজ করতে শিখিনি। এই যে, সম্পদ-বিত্ত এগুলির দ্বারা আপনি আমার কাছে মুল্যবান হতে পারেননি। আপনার ভ্যালু এমন কিছু বেড়ে যায়নি যা আমার মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনি আমার তরফ থেকে কোন ষড়যন্ত্রের আশংকা করছেন না।

হতে পারে, আপনি একজন মাস্তান- সকল খারাপ কাজই আপনার দ্বারা হয়ে থাকে। আপনি বিশ্বাস রাখতে পারেন, আমি আপনার ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করব না।

একজন মুসলিমের দেয়ার জায়গাটা এখান থেকেই শুরু। আপনি যেদিন থেকে মুসলিম সেদিন থেকে আপনি অন্যকে শান্তির নিরাপত্তা দিচ্ছেন। আপনি খুব ভাল করেই জানেন, মিথ্যা বেশিদিন টিকবে না, সত্য এসে সে জায়গা দখল করে নেবে। আপনি খুব ভাল করেই জানেন, একজন মানুষকে হত্যা করার অর্থই হচ্ছে সমগ্র মানবতাকে হত্যা করা...তাকে অপদস্ত করা।

আপনার কাছে নিরাপদ হবে আপনার পরিবেশ, অন্য সৃষ্টি, অন্য মত, অন্য চিন্তা। এগুলি কোন কিছুই আক্রান্ত হবে না।

তবে হ্যাঁ, আপনাকে আমার এই নিরাপত্তা দানকে সুযোগ মনে করে কোন অন্যায় করতে দেয়া হবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন। আমি আপনার পাশে এস দাঁড়াব, সরিয়ে দেব আপনার অবস্থান জালিমের জায়গা থেকে ভাল কিছুতে যদি আল্লাহ চান। আপনি আমাকে এক্সপ্লয়েট করতে পারবেন না, কারণ আমি এক্সপ্লয়েট হতে শিখিনি।

Sunday, September 2, 2007

অন্তর যখন পাথরের মত কঠিন বা তারও বেশি

"এ মন আমার পাথর তো নয়, সব ব্যাথা সয়ে যাবে নিরবে।" এরকম একটা গানের কথা শুনেছিলাম অনেক দিন আগে। এখানে পাথর বলতে কি বুঝানো হয়েছে? কঠিন হৃদয়ের মানুষ! কখনও কখনও মানুষের অন্তর হয়ে যায় পাথরের মত! তাহলে পাথর কেমন? যা ভেদ করা যায় না, যাকে দীর্ণ করা যায় না। আসলেই কি তাই? পাথরের মধ্য থেকেও ঝরণা ঝরতে দেখি, কখনও কখনও পানির আঘাতে ঝরে পড়তে দেখি এই পাথরকে। কিন্তু মানুষের মন এর থেকেও কঠিন হয়ে যায়!

বিশ্বাস আসলে খুব কঠিন জিনিস। একে ভাঙানো খুবই কঠিন। সহজ সরল হিসাবও হার মানে এই বিশ্বাসের কাছে। কেউই যা মনে করেন, তা থেকে সহজে সরে আসতে চান না । বেরিয়ে আসতে পারেন না পুরানো চিন্তার বেড়াজাল থেকে। সত্য পরাজিত বিশ্বাসের কাছে। এ ধরনের বিশ্বাসকে কি বলা যেতে পারে? অন্ধ বিশ্বাস।


যা সত্য সেটাই তো বিশ্বাসের ভিত্তি। আজ যা জানছি তার ভুল ভাঙছে সত্যের কাছে। আস্তে আস্তে বিশ্বাসেরও আপডেট হচ্ছে। মজবুত হচ্ছে, শিকড় পৌঁচচ্ছে গভীরে, ডালপালা পাখা মেলে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে শক্ত একটা ভিত্তির উপর। আগে ছোট্ট একটা পরিসরে যে বিশ্বাসের জন্ম হয়েছিল, আজ তা মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বিশ্বাসের সাথে যদি সত্যের দ্বন্দ্ব দেখা যায় সে বিশ্বাস হয় ভঙ্গুর।


এর বাইরেও কিছু মানুষ অবশ্যই আছে। যারা একটু হাম্বড়া টাইপের কখনই পুরানো চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। সত্য তাদের ধরা দেয়না। তারা হন পাথরের মত, কখনও কখনও তার থেকেও বেশি। কি সেই স্বার্থ যা তারা ছিঁড়তে পারেন না? কোন সত্য, কোন দৃষ্টান্তই তাদের জন্য দৃষ্টান্ত নয়। তারা শুধু দেখেন কি ফাঁক আছে সেখানে? ফাঁক না থাকলে স্বার্থকে টিকানো যাবে! এক ভঙ্গুর ফাঁক বের করেন নিজের সেই পুরানো বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার স্বান্তনায়। এতে নিজেকে বুঝ দেয়া যায়, অন্যকে হয়ত ধোঁকা দেয়া যায়..... কিন্তু পাওয়া যায় না মনে সেই শান্তি, অনাবিল শান্তি।


কিন্তু এই সব নিদর্শনসমূহ দেখতে পাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত তোমাদের মন কঠিন হয়ে গেছে-- পাথরের মত কঠিন কিংবা তা অপেক্ষাও কঠিনতর। কেননা, কোন কোন পাথর এমনও হয়ে থাকে যা থেকে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয়। কোন কোনটি দীর্ণ হয়ে যায় এবং তার মধ্য হতে জলধারা উৎসারিত হয়। আর কোনটি খোদার ভয়ে কম্পিত হয়ে ভূপাতিত হয়। আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে মোটেও অনবহিত নন।


হে মুসলমানগণ! এখন কি তোমরা ঐসব লোকের প্রতি এই আশা পোষণ কর যে, তারা তোমাদের ইসলামী দাওয়াতের প্রতি ঈমান আনবে অথচ তাদের একটি দলের এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যে, তারা খোদার কালাম শুনে এবং খূব ভাল করে বুঝে ইচ্ছাপূর্বক বিকৃত করেছে?


শেষের দুটি প্যারা সুরা বাকারার ৭৪ এবং ৭৫ নম্বর আয়াত।